প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 2, 2026 ইং
বিরোধী দলের জন্য এখনও আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত : চিফ হুইপ

বিরোধী দলের জন্য আলোচনার দ্বার এখনও উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদের আন্দোলনের পথ পরিহার করে সংসদে এসে কথা বলা উচিত।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরায় ফিরে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং সমাজের সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিরোধী দলকেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের জন্য আলোচনার দ্বার এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের পথ পরিহার করে সংসদে এসে তাদের গঠনমূলক বক্তব্য ও মতামত তুলে ধরতে পারে। কারণ গণতান্ত্রিক কার্যব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য কেবল সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই নিরসন করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করা যায়।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে 'বাংলাদেশ-ইইউ সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ' গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সাথে সংসদীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
এছাড়া আলোচনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায়। এ সময় শ্রম আইন সংশোধন, শ্রমিকদের সার্বিক অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং শিল্প খাতে টেকসই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন চিফ হুইপ।
বৈঠকে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেন।
অন্যদিকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সফল প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বহুগুণে জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।